আমেরিকা টুরিস্ট ভিসার ২০২৪ । খরচ, সুযোগ সুবিধাসহ দেখে নিনি বিস্তারিত

 

আমেরিকা টুরিস্ট ভিসার ২০২৪


২০২৪ সালে আমেরিকা টুরিস্ট ভিসা পাওয়ার জন্য কি কি করতে লাগবে এবং আমেরিকা টুরিস্ট ভিসায় আমেরিকা যাওয়ার জন্য খরচ কেমন লাগতে পারে তা আলোচনা করব।


কিভাবে ব্যাংক ব্যালেন্স ছাড়া, ব্যাংক ব্যালান্সের কোন স্টেটমেন্ট ছাড়া আমেরিকা টুরিস্ট ভিসা পাবেন এইসব বিষয় নিয়ে আজকের এই পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তাই আজকের পোস্ট শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ার অনুরোধ রইল।


আমেরিকা টুরিস্ট ভিসার জন্য সবাই উঠে পড়ে লেগে যান একটা ভালো ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দেওয়ার জন্য। ট্রানজেকশন করতেই থাকেন করতেই থাকেন শেষ পর্যন্ত কিছুই হয় না। এতে অযথা সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছুই নয়। এগুলো না করে ইন্টারভিউ এর প্রশ্ন এবং উত্তরের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেন তাতেই আপনার লাভ।

আমেরিকা টুরিস্ট ভিসা 2024

আপনারা হয়তো জানেন যে আমেরিকা তাদের আমেরিকান টুরিস্ট ভিসার জন্য যে ইন্টারভিউ নেয় সেটা হচ্ছে বিশ্বের মধ্যে সবথেকে উন্নত একটা পদ্ধতি। এই America টুরিস্ট ভিসা, অন্যান্য দেশগুলো খুব গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

যদি আপনার আমেরিকান টুরিস্ট ভিসা থাকে তাহলে দেখবেন অনেক উন্নত দেশে আপনি ভিসা ছাড়াই যেতে পারবেন। থাকতেও পারবেন অনেকদিন।

আমেরিকা টুরিস্ট ভিসা পাওয়ার জন্য কি কি লাগবে

অনেকেই মনে করেন আমেরিকায় টুরিস্ট ভিসায় যাওয়ার জন্য ব্যাংক স্টেটমেন্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।আমেরিকার ভিসা পাওয়ার জন্য ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা ব্যালেন্স কত থাকতে হবে।  কম ব্যাংক ব্যালেন্স হলে আপনি USA টুরিস্ট ভিসা পেতে পারবেন কিনা। অথবা আপনার যদি একেবারে ব্যাংক ব্যালেন্স না থাকে সে ক্ষেত্রে আমেরিকা টুরিস্ট ভিসা পাবেন কিনা এগুলো এখন আপনাদের বলার চেষ্টা করব। 

ব্যাংক স্টেটমেন্ট ছাড়া কি আমেরিকা টুরিস্ট ভিসা পাওয়া যাবে

এখন আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতেই পারে যে আমি যে বললাম ব্যাংক স্টেটমেন্ট ছাড়া আমেরিকান টুরিস্ট ভিসা পাওয়া যাবে, এটা আসলেই সম্ভব কি না। আমেরিকা অ্যাম্বাসি কিভাবে বুঝবে যে আপনার ট্রাভেল করার মতো যথেষ্ট টাকা পয়সা বা ব্যাংক ব্যালেন্স আছে কিনা?

হ্যা তারা এতটাই সুন্দর ভাবে বুঝে নেয় যে আপনি নিজেও কল্পনা করতে পারবেন না।DS-160 ফরমে আপনি যেই তথ্যগুলো দিয়েছেন সেই তথ্য গুলোই  ভিসা দেওয়া না দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। অনলাইন ds-160 ফরমে আপনার ইনকাম উল্লেখ করে দিতে হয়।

এই ইনকাম থেকেই তারা ধারণা করে নিতে পারে আপনার ব্যাংকে কত টাকা থাকতে পারে। এজন্য তারা আপনার কাছে ব্যাংক স্টেটমেন্ট চাইবেও না। আপনি গুগল বা ইউটিউবে একটু খোঁজাখুঁজি করে দেখলেই দেখতে পাবেন যে অনেকেই এই ব্যাংক স্টেটমেন্ট নিয়ে বক্তব্য দিতে দিতে শেষ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা যায় এটা কিছুই কাজে আসে না।

ব্যাংক স্টেটমেন্ট রিচ করার জন্য ভাই-বোন আত্মীয়-স্বজন সবার কাছ থেকে টাকা ধারে এনে অনেক বেশি ট্রানজিশন  করে যাচ্ছেন। এগুলো আসলে Unnecessary

আমেরিকা টুরিস্ট ভিসা পাওয়ার জন্য সবচেয়ে যে বিষয়টির প্রতি আপনার গুরুত্ব দেওয়া উচিত সেটা হচ্ছে  ইন্টারভিউ। ইন্টারভিউতে আপনাকে যেসব প্রশ্ন করা হবে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনি কনফিডেন্টলি দিতে পারতেছেন কিনা এসব নিয়ে আগে আপনাকে এনালাইসিস করা দরকার।

যারা আমেরিকা টুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করে থাকেন, তাদের ইনকাম প্রসেসে নিয়ে আমেরিকান অ্যাম্বাসিতে যদি কোনো সন্দেহ না থেকে থাকে, তাহলে আপনার কাছের ব্যাংক স্টেটমেন্ট চাইবেই না। তাই আমি বলবো আপনার যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে এবং আপনার ইনকাম যদি বৈধ হয় তাহলে ব্যাংক স্টেটমেন্ট নিয়ে আপনাকে তেমন একটা ভাবতে হবেনা আমেরিকা টুরিস্ট ভিসা পাওয়ার জন্য।

আর যদি আপনার ব্যাংক স্টেটমেন্ট থেকে থাকে তাহলে নিয়ে যাবেন কোন সমস্যা নেই। আসলে সেখানে এগুলো দেখার সময় থাকে না কারণ খুব অল্প সময়ের মধ্যে ইন্টারভিউটা শেষ করতে হয় তাদের। কিন্তু আপনাকে যদি তাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয় তাহলে অবশ্যই সকল ডিটেলস আপনার লাগবে।

যখন আপনি DN- 160 ফরমটি পূরণ করেছেন তখন সেখানে আপনার প্রফেশনটা উল্লেখ করেছেন। মনে করুন আপনি বাংলাদেশের একজন প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার। এক্ষেত্রে কিন্তু তারা আপনার ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখবে না। কারণ আপনি যদি একজন প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার হন তাহলে আপনার ইনকাম কেমন হতে পারে তাদের কাছে এটার নিশ্চয়ই একটা ধারণা আছে।

আবার যদি বাংলাদেশের আপনি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে আপনার ব্যাংক ব্যালেন্স দেখার কোন দরকার নেই তাদের। কারণ তারা জানে আপনার ইনকাম কেমন হতে পারে।

আমেরিকান এম্বাসি আরো একটি উপায় আপনার ব্যাংক ব্যালেন্স এর ডিটেলস পেতে পারে। সেটা হচ্ছে আপনার ট্রাভেল হিস্টরি। ইতিমধ্যে যদি আপনি 5 6 টি দেশ গ্রহণ করে থাকেন। তাহলে আপনি কিভাবে ভ্রমণ করেছেন? নিশ্চয়ই আপনার ট্রাভেল খরচ পরিশোধ করার জন্য যথেষ্ট টাকা পয়সাও ছিলো সেজন্য আপনি চার পাঁচটি দেশ ভ্রমণ করতে পেরেছেন। আমেরিকায় গেলেও আপনি সেই খরচটা পরিশোধ করতে পারবেন এই ধারণা থেকেই তারা আপনার ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখতে চায় না।

ব্যাংক স্টেটমেন্ট সাথে নিয়ে যাবেন কি যাবেন না

এখন প্রশ্ন হচ্ছে যেহেতু ব্যাংক স্টেটমেন্ট ছাড়াই আমেরিকা টুরিস্ট ভিসা পাওয়া যাবে তাই আপনি ব্যাংক স্টেটমেন্ট সাথে করে নিয়ে যাবেন কিনা?

এক্ষেত্রে আমি বলব যাদের অভিজ্ঞতা কম অর্থাৎ যারা নতুন আমেরিকা যাবেন বা এর আগে একটি বা দুটি দেশে ভ্রমর এ গিয়েছিলেন সেক্ষেত্রে আপনার ট্রাভেল স্টরি কিন্তু স্ট্রং না। এই যে আপনার ট্রাভেলস স্টোরি স্ট্রং না তার ফলে তাদের একটা সন্দেহ হতে পারে আপনার ইনকাম নিয়ে। মানে আপনার বর্তমানে টুর করার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ আছে কিনা।

তখন তারা যাচাই করবে আপনার ভিসাটি গ্রহণ করার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ ব্যালেন্স আপনার কাছে আছে কিনা এবং সেগুলো বৈধ কিনা। সেগুলো চেক করার জন্য ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স চেক করতে পারে।

আর যদি আপনার একটা ভালো  জব করেন সেখানে যদি ভালো স্যালারি পান অথবা বাংলাদেশের ভালো একটা ব্যবসা করেন তাহলে আপনার ব্যাংক স্টেটমেন্ট নেওয়ার কোন দরকার নেই। আপনার কাছে চাইবোও না। শুধুমাত্র কোন কিছু সন্দেহভাজক থাকলে সে ক্ষেত্রে চাইতে পারে।

তবে আপনার যে ডকুমেন্টগুলো আছে সেগুলো চাইলে নিয়ে যেতে পারেন। এটা অনেকটা মনের শান্তির মতো যে আপনি ভাবতেছেন আপনার সব কাগজপত্র আপনার কাছেই আছে। কোন সমস্যা হলে এগুলো কাজে আসতে পারে এজন্য নিতে পারেন ।


কিন্তু এগুলো তেমন গুরুত্বপূর্ণ না  তারাই বলে দিচ্ছে যে এত কাগজপত্র দেখার সময় নাই। শুধু ম্যাগনেটোরি ডকুমেন্টস গুলো আপনাদের নিয়ে যেতে হবে সাপোর্টিং ডকুমেন্টস যা পারেন তা নিয়ে যাবেন। যেগুলো পারবেন না সেগুলো জোর করে ম্যানেজ করার দরকার নেই।

আমেরিকা টুরিস্ট ভিসার খরচ ও ধরন

সাধারণ অ-অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদন ফি হল US$160। এর মধ্যে রয়েছে পর্যটক, ব্যবসা, ছাত্র এবং বিনিময় ভিসা। বেশিরভাগ পিটিশন-ভিত্তিক ভিসা, যেমন কাজ এবং ধর্মীয় ভিসা, US$190। K ভিসার খরচ US$265 এবং E ভিসার খরচ US$205।নীচের টেবিলে ভিসার ধরন এবং ফি পরিমাণের আরও বিস্তৃত তালিকা আলোচনা করা হয়েছে।


আমেরিকা টুরিস্ট ভিসার খরচ তালিকা


 বিভিন্ন আমেরিকা টুরিস্ট ভিসা খরচ – ফি শ্রেণী অনুসারে সাজানো আছে দেখে নিন এক নজরে
Amount (USD$) Fee Amount (BDT) Visa Type Description
$160 13920.00 B Business/Tourist
$160 13920.00 C-1 Transit
$160 13920.00 D Ship/Airline Crew
$160 13920.00 F Student (academic)
$160 13920.00 I Journalist and Media
$160 13920.00 J Exchange Visitors
$160 13920.00 M Student (vocational)
$160 13920.00 T Victim of Human Trafficking
$160 13920.00 TN/TD NAFTA Professionals
$160 13920.00 U Victim of Criminal Activity
$190 16530.00 H Temporary/Seasonal Workers and Employment, Trainees
$190 16530.00 L Intracompany Transferees
$190 16530.00 O Persons with Extraordinary Ability
$190 16530.00 P Athletes. Artists & Entertainers
$190 16530.00 Q International Cultural Exchange
$190 16530.00 R Religious Worker
$265 23055.00 K Fiancé(e) or Spouse of U.S. Citizen
$205 17835.00 E Treaty Trader/Investor, Australian Professional Specialty
Visa Types and Application Fee Amounts – Sorted by Visa Type
Visa Type Description Fee Amount (USD$) Fee Amount (BDT)
B Business/Tourist $160 13920.00
C-1 Transit $160 13920.00
D Ship/Airline Crew $160 13920.00
E Treaty Trader/Investor, Australian Professional Specialty $205 17835.00
F Student (academic) $160 13920.00
H Temporary/Seasonal Workers and Employment, Trainees $190 16530.00
I Journalist and Media $160 13920.00
J Exchange Visitor $160 13920.00
K Fiancé(e) or Spouse of U.S. Citizen $265 23055.00
L Intracompany Transferees $190 16530.00
M Student (vocational) $160 13920.00
O Persons with Extraordinary Ability $190 16530.00
P Athletes. Artists & Entertainers $190 16530.00
Q International Cultural Exchange $190 16530.00
R Religious Worker $190 16530.00
T Victim of Human Trafficking $160 13920.00
U Victim of Criminal Activity $160 13920.00
TN/TD NAFTA Professionals $160 13920.00


অন্যান্য ফি

কিছু ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত ভিসা ফি সরাসরি জাতীয় ভিসা কেন্দ্রে, মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে বা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগে প্রদান করা হয়।

নির্দিষ্ট কিছু দেশের আবেদনকারীদের তাদের আবেদন অনুমোদিত হওয়ার পর ভিসা ইস্যু ফি দিতে হতে পারে। এই ফিগুলি “পারস্পরিকতা” এর উপর ভিত্তি করে (অন্য একটি দেশ একই ধরণের ভিসার জন্য মার্কিন নাগরিককে কী চার্জ করে)।


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখনই সম্ভব ভিসা প্রদানের ফি বাদ দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে, যখন কোনো বিদেশী সরকার নির্দিষ্ট ধরণের ভিসার জন্য মার্কিন নাগরিকদের উপর এই ফি আরোপ করে, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের ভিসার জন্য সেই দেশের নাগরিকদের উপর একটি “পারস্পরিক” ফি আরোপ করবে।

এই ছিল আজকের পোস্ট আশা করি আপনারা আমেরিকা টুরিস্ট ভিসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। আমেরিকা টুরিস্ট ভিসা নিয়ে কোন প্রশ্ন বা সমস্যা থাকলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন। আর অন্য কোনো দেশের কোন ভিসা সম্পর্কে কোন তথ্য জানার জন্য আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

Leave a Comment