বুয়েট ভর্তি পরীক্ষা ২০২২ | বুয়েট ভর্তি পরীক্ষার যোগ্যতা ২০২২

বুয়েট ভর্তি পরীক্ষা ২০২২

বুয়েট ভর্তি পরীক্ষার ২০২২
BUET Admission Test 2022


বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনলজি সংক্ষেপে বুয়েট। বুয়েটে শব্দটি শোনার সাথে সাথেই বুকের ভেতরটা কেমন যেন চিনচিন করে! হওয়াটাই স্বাভাবিক। আজকে আমি আলোচনা করব স্বপ্ন নয় আশা নয় একমাত্র টার্গেট যাদের বুয়েট তাদের নিয়ে। কিভাবে তারা বুয়েট এডমিশন নেবে বুয়েট ভর্তি পরীক্ষা ২০২২ সম্পর্কে।

প্রায় 90% স্টুডেন্ট বুয়েটে চান্স পায়না। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে বুয়েটে আসন সংখ্যা মাত্র ১২১৫ টি। সুতরাং 80 থেকে 90 শতাংশ স্টুডেন্ট বুয়েটে চান্স না পাওয়াটাই স্বাভাবিক। পাশাপাশি বুয়েটের সিলেকশন রাউন্ড একটু কঠিন তাই অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী যেকোনো একটি ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ই।

বুয়েটের আসন সংখ্যা কত

1876 সালে বুয়েট তার যাত্রা শুরু করে। 2020 সালের হিসাব অনুযায়ী বুয়েটে আসন সংখ্যা রয়েছে, সিভিল এবং ত্রিপোলিতে বিভাগে 195 টি করে। এরপরে রয়েছে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর আসন সংখ্যা রয়েছে 180 টি।

CSE তে আসন সংখ্যা হচ্ছে 120 টি। আর বাকি যে পাঁচটি বিভাগ রয়েছে সেগুলোতে সবগুলোর আসন সংখ্যা 100 টির নিচে।

প্রিয় এসএসসি 2021 সালের শিক্ষার্থীরা আজকের এই পোস্টে আমি আপনাদের সাথে বুয়েট এডমিশন বা ভর্তি পরীক্ষা 2022 এর যাবতীয় তথ্য অর্থাৎ এডমিশন নিতে গেলে কি কি যোগ্যতা লাগবে কত পয়েন্ট লাগবে বুয়েটে এডমিশন নেওয়ার জন্য কোন কোন বিষয় থেকে প্রশ্ন করা হবে এবং কোন পদ্ধতিতে এখানে সিলেকশন করা হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

ইতিমধ্যে আমরা জেনে গেছি বুয়েটের আসন সংখ্যা কত। এখন জানবো বুয়েট এডমিশন নেওয়ার জন্য কি কি যোগ্যতা লাগবে।

বুয়েট ভর্তি পরীক্ষার যোগ্যতা ২০২২


বুয়েট ভর্তি পরীক্ষার যোগ্যতা 2020 সালের হিসাব অনুযায়ী ২০২২ এইচএসসির গণিত ফিজিক্স এবং কেমিস্ট্রিতে মিনিমাম GPA-5 থাকা লাগবে। অর্থাৎ এই তিনটি বিষয়ে GPA-5 ছাড়া আপনি বুয়েটের ফ্রম টাই তুলতে পারবেন না।

এবং সাথে আরও একটি শর্ত আছে এসএসসিতে যে ম্যাথ ফিজিক্স এবং কেমিস্ট্রি ছিল ওখানে প্রতিটা বিষয়ে 100 করে মোট 300 মার্কের প্রশ্ন ছিল। ঐ 300 মার্কের মধ্যে অবশ্যই আপনার 270 মার্ক থাকা লাগবে।এটা 2020 সালের অনুযায়ী। 21 সালে যদি চেঞ্জ হয় তাহলে অবশ্যই সেটা নোটিশ দিয়ে জানানো হবে।


বুয়েট এডমিশন পরীক্ষার ধরন

বুয়েট এডমিশন পরীক্ষার দুই ধাপে নেওয়া হয়। প্রথমটা হচ্ছে প্রিলিমিনারি। অর্থাৎ যেটাকে আমরা প্রিলি বলি। এখানে mcq হচ্ছে 100 টি। সময় হচ্ছে 60 মিনিট অর্থাৎ প্রতি মিনিটে প্রায় 2 টার কাছাকাছি mcq উত্তর দিতে হবে।

এরপরেই প্রিলিমিনারি থেকে সিলেকশন করা হবে প্রায় ছয় হাজার স্টুডেন্ট কে। তারপর এই ছয় হাজার স্টুডেন্ট লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। লিখিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে আবার দুই ধরনের সিস্টেম রয়েছে।

আটটি বিভাগের ক্ষেত্রে পূর্ণমান হচ্ছে ৪০০। সময় হচ্ছে দুই ঘন্টা। শুধুমাত্র আর্কিটেকচার বিভাগের জন্য পূর্ণমান হচ্ছে 250 এবং সময় হচ্ছে দেড় ঘন্টা।

বুয়েট এডমিশন পরিক্ষার বিষয় এবং প্রশ্ন কিভাবে করা হবে

তাহলে চলুন এবার জেনে নেই কোন কোন বিষয় থেকে প্রশ্ন করা হবে এবং কতটুকু প্রশ্ন করা হবে সেগুলো সম্পর্কে। প্রিলিমিনারিতে যে 100 টি MCQ রয়েছে তারমধ্যে ম্যাথ থেকে করা হবে 34টি ফিজিক্স থেকে করা হবে 33 টি এবং কেমিস্ট্রি থেকে করা হবে 33 টি। অর্থাৎ মোট 100 টি এম MCQ করা হবে।


আরো পড়ুন: আতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ ও গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত সম্পর্কে জেনে নিন বিস্তারিত

লিখিত পরীক্ষায় কিভাবে প্রশ্ন করা হবে

লিখিত পরীক্ষায় ক্ষেত্রে ম্যাথ থেকে 14 টি ম্যাথ সমাধান করতে হবে। পূর্ণমান 140।ফিজিক্স এবং কেমিস্ট্রি থেকে তেরোটি অর্থাৎ 130 করে 260 মার্কের এনসার করতে হবে। সব মিলে মোট 400 মার্কের এনসার করতে হবে।


বুয়েট ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল নির্ধারণ পদ্ধতি

প্রথমাবস্থায় আপনি যদি প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় টিকে যায় তাহলে 6000 স্টুডেন্টদের মধ্যে আপনার নাম থাকবে। তারপর আপনি লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এবং লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমিক 2000 স্টুডেন্ট থেকে মাত্র ১২১৫ জন স্টুডেন্টকে বাছাই করে নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র লিখিত পরীক্ষার নাম্বারের উপর তারা মেধাতালিকা প্রকাশ করে থাকে। এটাই হচ্ছে বুয়েটের সিলেকশন রাউন্ড বা ফলাফল নির্ধারণ পদ্ধতি।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ইতিমধ্যেই একটি বক্তৃতায় বলেছেন যে “তোমরা যেহেতু সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছো তাই এডমিশন টেস্ট এর জন্য যেন শর্ট সিলেবাস থাকে তিনি সেটার পক্ষে থাকবেন। এবং বুয়েট কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে মেডিকেল ভার্সিটি সহ বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আলোচনা করে জানাবে যেন পরীক্ষাটা শট সিলেবাস এর উপর করা হয়।

তবে এখন পর্যন্ত লিগ্যাল নোটিশ কর্তৃপক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি। হয়তো তারা শিক্ষামন্ত্রী সুপারিশ গ্রহণ করতেও পারে। যদি না করে সে ক্ষেত্রে ফুল সিলেবাস ডুয়েট এডমিশন পরীক্ষা হবে আর যদি সুপারিশ করে তাহলে শর্ট সিলেবাসে হবে।

বুয়েট এডমিশন টেস্টের জন্য অবশ্যই আপনাদের একটা কোচিং করার প্রয়োজন হবে। এর কারণ হচ্ছে আপনারা অলরেডি এসএসসির প্রতিটি বিষয়ে শেষ করেছেন। কিন্তু আপনি যখন কোন একটা কোচিং সেন্টারে ভর্তি হবেন। সেখানে যদি ভালো ভাবে কোচিংটা করেন এবং সেই কোচিং সেন্টারের যেই সকল মেন্টাররা রয়েছে তারা যদি প্রপার গাইডলাইন আপনাদের দিতে পারে তাহলে অবশ্যই আশা করা যায় আপনাদের ভালো একটা ফলাফল আসবেই।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ২০২২

আমি আপনাদের একটাই অনুরোধ করবো আপনি যেই কোচিং সেন্টারে কোচিং করেন না কেন প্রপার একটা গাইড লাইন নিয়ে প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন রুটিন অনুযায়ী আদায় করতে পারেন তাহলে আশাকরি ১২১৫ জনের মধ্যে আপনিও একজন হবেন।

Leave a Comment