Ai কনটেন্ট রাইটিং | AI (এআই) লিখিত কন্টেন্টের ভবিষ্যৎ কি?

AI লিখিত কন্টেন্টের ভবিষ্যৎ কি?গুগল কি ভবিষ্যতে AI-লিখিত কন্টেন্টকে পেনাল্টি দিবে?গুগল কি AI লিখিত কনটেন্ট ফাইন্ড-আউট করার জন্য কোনো ধরণের স্পেশাল পদক্ষেপ নিবে?

এমন কিছু প্রশ্ন ব্যপক ভাবেই একটা লুপের মতো হয়ে ঘুরছে আমাদের মাঝে।এখন এই সকল প্রশ্নের একটি সম্ভাব্য বা গ্রহণযোগ্য উত্তর পেতে হলে কিছু বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা থাকা বাধ্যতামূলক।




ai কনটেন্ট রাইটিং


AI লিখিত কন্টেন্টের ভবিষ্যৎ কি?

গুগল একটি মাল্টি বিলিয়ন ডলারের টেকনোলজি কোম্পানি। এখন এই মাল্টিবিলিয়ন মানে যে ২-৪-বিলিয়ন সেটা নয়। ২০২০-সালের তথ্য অনুযায়ী গুগল মুটামুটি ১২১০+ বিলিয়ন ডলারের একটি টেকনোলজি কোম্পানি। ১-বিলিয়ন মানে হচ্ছে 85,962,730,000-কোটি টাকা। এখন ১২১০-বিলিয়নে কত কোটি টাকা আর কোটির পরে কত গুলা শূন্য বসাতে হবে সেটা ভেবেই হয়তো অনেকের হার্ট এট্যাক হয়ে যাবে।

বিজনেস মানেই দিন শেষে লাভ-লসের হিসাব। গুগলের যদি কোনো মাথা ব্যথা থাকে তাহলে সেটা হচ্ছে বছর শেষে বিলিয়নের হিসাবে কি পরিমান লাভ হয়েছে অথবা তারা তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দীর তুলনায় বিলিয়নের হিসাবে কি পরিমান এগিয়ে গিয়েছে এইসব নিয়ে। এখন বিজনেস মানে শুধু লাভ-লস আর লাভ করতে যেয়ে আপনি ভোক্তার হাতে গার্বেজ তুলে দিবেন –> না আমি এইটা বলছি, না গুগল এই কাজ করেন।

কনটেন্ট কি AI জেনারেটেড নাকি মানব রচিত এইসব বিষয়ে গুগলের মাথা ব্যথা হওয়ার কথা না।

বিঃদ্রঃ– গুগলের কার্য পদ্ধতি সর্বদাই টপ-সিক্রেট। তারা এই সব বিষয়ে কখনোই ক্লিয়ার-কাট কোনো কিছু প্রকাশ করেনা এমনকি প্রকাশ করার বিষয়ে তাদের কোনো প্রকার বাধ্যবাধকতাও নেই।

কোনো কনটেন্ট তথ্য বা সেবার মাধ্যমে একজন ইউজারেকে সন্তুষ্ট করতে পারছে কিনা এটাই মূল বিবেচ্য বিষয়। গুগল এই বিষয়টাকে সর্বোচ্চ প্রিয়োরিটি প্রদান করে।

কনটেন্ট AI জেনারেটেড অথবা হোক মানব রচিত যদি ইউজারেকে সন্তুষ্ট করতে না পারে তাহলে যদি ভুল ক্রমেও র্যাংক করেও তাহলেও পরবর্তীতে বা নতুন কোনো আপডেট সেটা র্যাংক এবং মূল্যায়ন ২-টাই হারাবে।

AI গুলা মানুষের কাজকে সহজ এবং দ্রুততর করে। অনেক প্রফেশনাল কনটেন্ট রাইটার বর্তমানে AI ব্যবহার করেন।

AI কিভাবে ব্যাবহার করবেন

এখন কথা হচ্ছে হাতে সরঞ্জাম থাকলেই হবেনা সেই সরঞ্জাম থেকে সর্বোচ্চ এবং কার্যকরী আউটপুট পাওয়ার জন্য সেই সরঞ্জামের সঠিক ব্যবহার জানতে হবে।

পৃথিবীর সর্বাধুনিক ফাইটার জেট মানেই যে আপনি যুদ্ধে জিতে যাবেন বিষয়টা এমন না কারণ ফাইটার জেটের কার্যকারিতা নির্ভর করে তার পাইলটের উপরে। পাইলট যদি আনাড়ি হয় তাহলে যে কোনো যুদ্ধে সর্বাধুনিক ফাইটার জেট এন্ড পাইলট সব অরণ্যে রোদন ছাড়া আর কিছু নয়। ব্যাট হাতে কোনো সাধারণ যদু-মধু নিশ্চই সাকিব-আল-হাসানের মতো কার্যকরী হবেনা।

AI নিজে থেকে কিছু করেনা তাকে দিয়ে করিয়ে নিতে হয় আর সেটা আমার/আপনার মতো মানুষ করে। এখন AI যদি খারাপ আউটপুট দেয় সেটার জন্য এর ইউজার দায়ী অর্থাৎ আমরা (মানুষ) যারা AI ইউজ করছি তারা। AI গুলাও এমন, যে/যারা ইউজ করতে পারে সে নিশ্চই একদম মানব রচিত কন্টেন্টের চাইতেও বেটার কনটেন্ট জেনাটের করতে পারে।


যে/যারা পারেনা তাকে নিয়ে অথবা কোনো একজন AI এর যথাযথ ব্যবহার পারলোনা এই কারণে AI খারাপ অথবা ভবিষ্যতে গুগল কি করবে এইসব নিয়ে ভেবে নিজেকে নির্বোধ প্রমান করার নিতান্তই অপ্রয়োজনীয়।

বাজারে নদী/সামুদ্রিক মাছের চাহিদা হয়তো একটু বেশি কিন্তু পাশাপাশি চাষের মাছ-ও নিজের একটা অবস্থান এবং গ্রহণযোগ্যতা তৈরী করে নিয়েছে।

মাছের সতেজতা প্রধান বিবেচ্য বিষয় এর পরে আসে নদী/সমুদ্র অথবা চাষের ইত্যাদি বিষয়। কেউ নিশ্চই নদী/সামুদ্রিক মাছের নামে পঁচা মাছ অথবা বিষাক্ত পটকা বা রোহিঙ্গা মাছ কিনবে না।

গুগল ঠিক এই কাজটাই করে, কনটেন্ট চাই-কি জাহান্নাম থেকে আসুক সেটা ফ্যাক্ট না কনটেন্ট কি উপযুক্ত তথ্য বা সেবা প্রদান করতে পারছে কিনা এবং সেটা ভিজিটরের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ রূপে পূরণ করতে পারছে কিনা সেটাই মুখ্য।

উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারলে OK না পারলে স্বয়ং সেক্সপিয়ার রচিত কনটেন্ট হলেও ডাইরেক্ট তুলে ডাস্টবিনে ফেলে দিবে। পরিষ্কার সাইন্স।

এখন কেউ যদি উচ্চ এবং সুশিক্ষিত হওয়ার পরেও স্বেচ্ছায় নির্বাসনে এমাজনের জঙ্গলে চলে যায় অথবা আপনি যদি এমাজনের জঙ্গলের আদিবাসী যারা কখনোই সূর্যের আলো দেখেনি তাদেরকে রকেট সাইন্স বুঝতে যান তাহলে সমস্যা।

বিঃদ্রঃ- AI কখনোই মানুষের বিকল্প হতে পারবেনা। আমি এমনটা বলছিও না। আমি জাস্ট অবান্তর/অযৌক্তিক চিন্তা ভাবনার বিপক্ষে।

টেকনোলজি আর্শিবাদ যদি পজিটিভলি ব্যবহার করা যায় আমি এটাই বলছি। সব কিছুর ভালো এবং মন্দ ২-টা সাইড আছে –> আপনি/আমি কোন সাইডে সেটাই মুখ্য।

মেডিসিন কারো জন্য জীবন রক্ষাকারী আবার কারো জন্য মৃত্যুর কারণ। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

আমার কাছে AI-কে মনে হয়ে ক্লাসের ফার্স্ট যে কিনা মঙ্গল গ্রহ থেকে প্রশ্ন আসলেও অলওয়েজ ফার্স্ট হয়।

এখন এই AI আমার হাতে মানে ফার্স্ট বয়ের সিক্রেট আমার হাতে বা তার পরীক্ষার পেপারটা আমার হাতে। ফার্স্ট বয়ের এই পেপার আমাকে কপি করতে হবে। এখন আমি যা করবো ফার্স্ট বয় যেসব পয়েন্ট লিখেছে সেগুলা তো আমি লিখবোই সাথে নিজে কিছু বাড়তি পয়েন্ট লিখবো যার মানে হচ্ছে এখন আমি ফার্স্ট বয় থেকেও এগিয়ে।

 

অনেক আগে কনটেন্ট রাইটিংয়ের উপরে একটি কোর্স কিনেছিলাম। উক্ত কোর্সের ট্রেইনার ছিলেন অনেক এগ্রেসিভ এবং বদরাগী টাইপের। ওনার মোটো ছিল “Write agrrasive and write dirty” ওরে বাপরে কি ভয়ঙ্কর। যাইহোক আমার উক্ত মেন্টর অবশ্য যথেষ্ট যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ছিলেন কারণ চ্যালেঞ্জে করে তিনি যথেষ্ট কম্পিটিটিভ কিওয়ার্ডে লিখিত তার কনটেন্ট ৩-দিনের ব্যবধানে র্যাংক করে দেখিয়ে ছিলেন।

এই ভদ্রলোক ৮০০-ওয়ার্ডের কনটেন্ট লিখার জন্য চার্জ করেন ৫০০-১২০০ ডলার।

এখন আমার বা আপনার অনেকেরই এমন সামর্থ্য নাই যে এত টাকা ব্যয় করে এমন অভিজ্ঞ বা দক্ষ রাইটার হায়ার করবো।

এফিলিয়েট নিয়ে কল্পনা করতেও মাথায় অন্তত ১০০+ কনটেন্ট এফোর্ড করার ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। ১০০+ কনটেন্ট প্রতি কনটেন্ট নূন্যতম ৫০০-টাকা করে ধরলেও ৫০-কে। ওহঃ মাই পালঙ্ক :O

কনটেন্ট রাইটারের নামে সোনার হরিণ খোঁজার বদলে আমি চোখ বন্ধ করে AI বেছে নিবো।

আমার কাছে AI হচ্ছে শহরের সুশিক্ষিত এবং মডার্ন মেয়ে যে ফ্যান্সি ঘোড়া নিয়ে গ্রামের বাড়িতে পাখি শিকারে বের হয়েছেন আর যারা এর বিপক্ষে বা এই বিষয়টা নিয়ে বিদ্রূপ করছেন তারা হচ্ছে গ্রামের চাচাতো ভাই যিনি ধান ক্ষেতের কোমড় সমান কাঁদায় দাঁড়িয়ে শহুরে কাজিনের এইসব দেখে ফোকলা দাঁতে ফিক করে হেসে দেন।

আমার কাছে রাইটার মানেই অযথা বিড়ম্বনা। আর AI মানে নিজের স্বাধীনতা।

কে জানে কনটেন্ট রাইটাররা AI দিয়ে কন্টেন্ট লিখে হালকা মডিফাই করে হয়তো চালিয়ে দিচ্ছে। কারো কারো মতে ৭০% কনটেন্ট-ই প্রাথমিক ভাবে AI জেনারেটেড পরে মডিফাই করা হয়।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এসইও এক্সপার্ট একবার অভিযোগ করে পোস্ট দিয়েছেন এমন যে, “৪০০-ডলার পার কনটেন্ট। এমন রেতে কনটেন্ট রাইটার হায়ার করার পরেও তিনি যে বিষয়ে কনটেন্ট লিখতে বলেছেন সেই বিষয়ে না লিখে সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়ে কনটেন্ট লাইক তাকে ডেলিভার করছিলেন”। 

৫০-৬০ ডলারে ৫০-হাজার কনটেন্ট। বিষয়টা আমি এই ভাবে দেখি যে, মানব রচিত কনটেন্ট মানে একটাই শট হয় সাফল্য বা ব্যর্থতা। সম্ভাবনা ৫০:৫০ অন্যদিকে AI মানে ৫০-টা শট মানে সম্ভাবনা ৫০-গুন। আমি বাড়তি সম্ভাবনায় বিশ্বাসী। আজকের পোস্টটি এই পর্যন্তই। AI (এআই) কন্টেন্ট রাইটিং সম্পর্কে আরো জানার থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন। ধন্যবাদ

Leave a Comment